শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০০৯

আত্মমর্যাদা

আত্মমর্যাদা

কী বিশাল বিস্ময় ! এমনই করুণাময় !
অথচ জেনে এসেছি বাণিজ্যিক এ জগৎসংসার!
নিজেকে নির্দোষ ব’লে দাবি করবার জন্য
কিছু অজুহাত কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ জড়ো করা
তেমন কঠিন কিছুই নয়
ব্যক্তির প্রতিপক্ষ পরিবেশ এখানে এমনই করুণাময় ...

তাছাড়া সেয়ানা চালবাজ এই আমি জানি যুক্তির জোরে
মিথ্যাকেও সত্যের খোলসে ঢাকবার নিত্যাধুনিক কৌশল
এমনকি ধরা প’ড়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে
সহজেই জাগাতে পারি সাজানো শোরগোল
দয়াময় জনগোষ্ঠী আত্মকোন্দলিত অর্থহীন প্রতিহিংসায়
আর ঐ সুযোগেই নিশ্চিন্ত আমি অক্ষত নিরাপদ
দারুণ এ সুযোগটা করুণা আমার জন্য
উন্মত্ত জনগোষ্ঠী সুযোগ দিতে করে না কার্পণ্য
জটিল বাণিজ্যিক এ জগৎসংসার! এমনই করুণাময় !

তবে ! আত্মসম্মানবোধ চাড়া দিলে
ঘৃণ্য মনে হয় যেকোনো ধরণের করুণাগ্রহণ
এবং যখন জাগ্রত আমার অপ্রকাশমান অহংকার
ও সব নিকৃষ্ট ছলাকলায় যেতে চায় না গর্বিত মন
আর সেখানে স্ব-সম-মানে সত্যটা প্রকাশ ক’রে দিয়ে
নিজের অপরাধের বিচার দাবি ক’রে
সম-মানের শাস্তি চেয়ে নেওয়াতেই যেন
গর্বিত মর্যাদাবানদের জন্য নিরাপদ মনে হয় ...

রঙ্গপুর --২০/০৫/২০০৬

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০০৯

আত্ম-সম-মান

আত্ম-সম-মান

অতৃপ্ত ব্যক্তিমাত্রই আত্মসম্মানবোধহীন ।
বলা বাহুল্য অসন্তুষ্টরাই আত্মসম্মানজ্ঞানহীন।

আত্মসম্মানিতরা পেছনে ছোটে না ।
নিজের অবস্থানে এতটাই সন্তুষ্ট! ঐ আত্মসম্মানিতরা !
--এখানে কারো প্রতি কোনো অভিযোগ ছোড়ে না;
যেন পাওয়ার মতো আর কিছু নেই ভারসাম্যের বিচারে !
--কেবল সাজা পাওয়াটাই যেন অবশিষ্ট !

অভিযোগকারী হওয়ার চে’ নিজে অভিযুক্ত হওয়াকে
সসম্মানে মেনে নিয়ে নিয়ে আত্মসম্মানিতরা পরিতৃপ্ত ।
নিত্য আনন্দিত ঐ পরিপূর্ণ তৃপ্তদের কীর্তি দেখে দেখে
অপদস্থ আমিও অবাক হচ্ছি অনেকের মতো ।
রঙ্গপুর --৩০/০৩/২০০৫

শাস্তির পাত্র

শাস্তির পাত্রনির্ধারণ

“অপরাধকর্মী, যথারীতি চিহ্নিত বদমাশ,
-স্বেচ্ছায় কখনো অপরাধী হ’তে পারে না,
-তাই, -সে মুক্তি পাক্ সসম্মানে ;--
-তার প্রকাশ্য সহযোগীদেরকে বেঁধে
স্মরণে রাখার মতো
শাস্তি দেওয়া হোক্ বিধানে।”--
বদমাশগুলো প্রত্যেকেই মানবসন্তান ।
--যন্ত্রের মতোই নির্বোধ,
--অভিশপ্তের আজ্ঞাবহ জীব,
-এবং, তারা মৃত্যুভয়ে ভীত।
-সহযোগী না-পেলে, -কোনো বদমাশ কখনো
কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না বিধানে ।
-বদমাশেরা চূড়ান্ত অক্ষম, --আত্মাহুতিপ্রবণ ;
-বিধানে অক্ষমেরা অপরাধী হ’তে পারে না ।
শাস্তি নয়, -অভিশপ্তের প্রাপ্য অক্ষমতা,
--বিধানে শাস্তি প্রাপ্য দোষীর ॥
‘অভিশপ্ত’ এবং ‘দোষী’, -সমার্থক নয়,
-বরং, -ভিন্ন ভিন্ন অর্থই বহন করে।
-সমার্থক হ’লে, -বদমাশেরাও অক্ষম না-হ’য়ে
দোষী হ’তে পারতো,---
-এবং, -শাস্তি পেতে পারতো ন্যায্য বিচারে ।
অভিশপ্ত, বদমাশ অথবা যেকোনো অক্ষম-সত্তাকে
নিরপেক্ষ বিচারে, -অপরাধীদের তালিকায় নিলে
বিচার বিধান অচল হ’য়ে যায় ।
তবে, -সচেতন স্বাধীন সত্তা, --‘মানুষ’,-
-চাইলেই দোষী হ’তে পারে ।
কেবলমাত্র মানুষই পারে, --লাভে-লোভে,-
--বদমাশের সহযোগী কিম্বা সুযোগদাতা হ’য়ে
শাস্তি পাওয়ার যোগ্য অপরাধী হ’তে ॥
চূড়ান্ত অক্ষম বদমাশের স্বাধীনতা নেই,-
-অভিশপ্তের নেই অপরাধী হওয়ার ক্ষমতা ॥
‘অক্ষমতার’র চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা নেই বিধানে,
-যা’ আগে থেকেই রাখা আছে বদমাশের বরাদ্দে ।
যেকোনো ‘অপরাধ’-এ,--শেষ বিচারে,--শাস্তি,-
কেবল, -স্বাধীন মানুষের জন্যই অপেক্ষমাণ ।
--লোভী-সহযোগী কিম্বা নীরব-সুযোগদাতারাই
অপমানকর শাস্তি পাওয়ার যোগ্য অপরাধী ॥
কোনো বদমাশ যদি শাস্তি পেলো,
-সে তো করুণা পেলো ;
-ঐ বদমাশ, -মানুষের সমকক্ষ হবার সুযোগ পেলো ॥
দোষীও নয় নির্দোষও নয়, -অক্ষম অভিশপ্তরা
শাস্তি পেয়ে মানুষের সমকক্ষ হ’লে!--
--মানদণ্ডহীনতায়, -স্বাধীন মানুষ হারাবে শ্রেষ্ঠত্ব ;
--বিধান বিকল, -সব একাকার ॥
রঙ্গপুর- ০৩/০৭/২০০৩ খ্রি: