শাস্তির পাত্রনির্ধারণ
“অপরাধকর্মী, যথারীতি চিহ্নিত বদমাশ,
-স্বেচ্ছায় কখনো অপরাধী হ’তে পারে না,
-তাই, -সে মুক্তি পাক্ সসম্মানে ;--
-তার প্রকাশ্য সহযোগীদেরকে বেঁধে
স্মরণে রাখার মতো
শাস্তি দেওয়া হোক্ বিধানে।”--
বদমাশগুলো প্রত্যেকেই মানবসন্তান ।
--যন্ত্রের মতোই নির্বোধ,
--অভিশপ্তের আজ্ঞাবহ জীব,
-এবং, তারা মৃত্যুভয়ে ভীত।
-সহযোগী না-পেলে, -কোনো বদমাশ কখনো
কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না বিধানে ।
-বদমাশেরা চূড়ান্ত অক্ষম, --আত্মাহুতিপ্রবণ ;
-বিধানে অক্ষমেরা অপরাধী হ’তে পারে না ।
শাস্তি নয়, -অভিশপ্তের প্রাপ্য অক্ষমতা,
--বিধানে শাস্তি প্রাপ্য দোষীর ॥
‘অভিশপ্ত’ এবং ‘দোষী’, -সমার্থক নয়,
-বরং, -ভিন্ন ভিন্ন অর্থই বহন করে।
-সমার্থক হ’লে, -বদমাশেরাও অক্ষম না-হ’য়ে
দোষী হ’তে পারতো,---
-এবং, -শাস্তি পেতে পারতো ন্যায্য বিচারে ।
অভিশপ্ত, বদমাশ অথবা যেকোনো অক্ষম-সত্তাকে
নিরপেক্ষ বিচারে, -অপরাধীদের তালিকায় নিলে
বিচার বিধান অচল হ’য়ে যায় ।
তবে, -সচেতন স্বাধীন সত্তা, --‘মানুষ’,-
-চাইলেই দোষী হ’তে পারে ।
কেবলমাত্র মানুষই পারে, --লাভে-লোভে,-
--বদমাশের সহযোগী কিম্বা সুযোগদাতা হ’য়ে
শাস্তি পাওয়ার যোগ্য অপরাধী হ’তে ॥
চূড়ান্ত অক্ষম বদমাশের স্বাধীনতা নেই,-
-অভিশপ্তের নেই অপরাধী হওয়ার ক্ষমতা ॥
‘অক্ষমতার’র চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা নেই বিধানে,
-যা’ আগে থেকেই রাখা আছে বদমাশের বরাদ্দে ।
যেকোনো ‘অপরাধ’-এ,--শেষ বিচারে,--শাস্তি,-
কেবল, -স্বাধীন মানুষের জন্যই অপেক্ষমাণ ।
--লোভী-সহযোগী কিম্বা নীরব-সুযোগদাতারাই
অপমানকর শাস্তি পাওয়ার যোগ্য অপরাধী ॥
কোনো বদমাশ যদি শাস্তি পেলো,
-সে তো করুণা পেলো ;
-ঐ বদমাশ, -মানুষের সমকক্ষ হবার সুযোগ পেলো ॥
দোষীও নয় নির্দোষও নয়, -অক্ষম অভিশপ্তরা
শাস্তি পেয়ে মানুষের সমকক্ষ হ’লে!--
--মানদণ্ডহীনতায়, -স্বাধীন মানুষ হারাবে শ্রেষ্ঠত্ব ;
--বিধান বিকল, -সব একাকার ॥
রঙ্গপুর- ০৩/০৭/২০০৩ খ্রি:
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন